ইসলামের প্রতিটি ইবাদতের একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও শর্ত রয়েছে। নামাজের জন্য পবিত্রতা অপরিহার্য, এবং এটি ওজু বা গোসলের মাধ্যমে অর্জিত হয়। অনেকেই প্রশ্ন করেন, “অজু করার পর যদি চুল কাটা হয়, তাহলে কি নামাজের জন্য নতুন করে অজু করতে হবে, নাকি আগের অজুই কার্যকর থাকবে?”
এই বিষয়টি ইসলামী শরিয়তের আলোকে বিশ্লেষণ করা যাক।
১. অজু কি ভেঙে যায় চুল কাটলে?
না, চুল কাটলে অজু ভাঙে না। ইসলামের মৌলিক বিধান অনুসারে, অজু শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট কারণে ভঙ্গ হয়, যেমন:
- পেশাব বা পায়খানা করা
- গ্যাস বা বায়ু নির্গমন
- বীর্যপাত বা মাসিকের রক্ত প্রবাহ
- গভীর ঘুম
- জ্ঞান হারানো
চুল কাটা বা দাড়ি ছাঁটা এ ধরনের কোনো কারণের মধ্যে পড়ে না। তাই অজুর পর চুল কাটলে নতুন করে অজু করার প্রয়োজন নেই।
২. ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী মতামত
ইসলামের চার মাজহাবের ফিকহ মতে চুল বা নখ কাটলে অজু নষ্ট হয় না।
- হানাফি মাজহাব: চুল, নখ বা শরীরের অন্য কোনো অংশ কাটলে অজু ভাঙবে না।
- মালিকি মাজহাব: চুল বা নখ কাটা অজু নষ্টের কারণ নয়।
- শাফেয়ী মাজহাব: শরীরের কোনো অংশ কেটে রক্ত বের না হলে নতুন অজুর প্রয়োজন নেই।
- হাম্বলি মাজহাব: চুল কাটা বা নখ কাটার কারণে অজু নষ্ট হয় না।
৩. রক্ত বের হলে কী হবে?
যদি চুল কাটার সময় দুর্ঘটনাবশত মাথা থেকে রক্ত বের হয়, তাহলে কি নতুন অজু করতে হবে?
- হানাফি মতে: শরীরের কোনো স্থান থেকে রক্ত প্রবাহিত হলে (যেমন মাথা কেটে রক্ত বের হলে) অজু ভেঙে যাবে। তাই নতুন করে অজু করতে হবে।
- শাফেয়ী মতে: রক্ত বের হলে অজু নষ্ট হয় না, যতক্ষণ না তা মুখ বা পায়খানার রাস্তা দিয়ে বের হয়।
অর্থাৎ, চুল কাটার সময় সামান্য রক্ত বের হলে হানাফি মাজহাব অনুসারীরা নতুন করে অজু করবেন, তবে শাফেয়ী মাজহাব অনুসারীদের জন্য নতুন অজু বাধ্যতামূলক নয়।
৪. চুল কাটার পর নামাজ পড়ার বিধান
যেহেতু চুল কাটলে অজু ভাঙে না, তাই অজুর পর চুল কাটলে পুনরায় অজু না করেও নামাজ পড়া যাবে। তবে, চুল কাটার পর ভালোভাবে ধুলাবালি পরিষ্কার করে নেওয়া এবং পরিচ্ছন্ন থাকা সুন্নত।
উপসংহার
চুল কাটা নামাজের জন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না। অজুর পর চুল কাটলে নতুন করে অজু করার প্রয়োজন নেই, যতক্ষণ না রক্ত প্রবাহিত হয়। তাই আপনি চুল কাটার পর আগের অজুতেই নামাজ পড়তে পারবেন। আল্লাহ আমাদের সঠিক জ্ঞান দান করুন। আমিন।